আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষের মধ্যে একটা ব্যাপার খেয়াল করি আমি, মেয়েদের স্বার্থ নিয়ে কিছু বললেই বলে বসে ' তাসলিমা নাসরিন' হইসেন নাকি?
আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই "নারীবাদ মানে তসলিমা নাসরিন না"।
নারীবাদ মানে সুস্থ ভাবে, সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে কথা বলা, চিন্তা করা, সমাজে সচেতনতার সৃষ্টি করা। ছেলেরা প্যান্ট শার্ট পরে, মেয়েরা কেন পারবে না, ওরাও পরবে- এটা নারীবাদ না।
ছেলেরা রাস্তা ঘাটে যা করে, মেয়েরাও তা-ই করবে- এটা নারীবাদ না।
এগুলো উগ্রতা, আর উগ্রতা কখনও ভালো ফল বয়ে আনে না। শার্ট,প্যান্ট পরলেই কেউ স্মার্ট হয়ে যাবে না, যদি না তার ভেতরে কোন জ্ঞান না থাকে, যদি না তার ভেতরে প্রজ্ঞার অভাব থাকে, যদি না তার মধ্যে শালিনতা না থাকে।
তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে হিজাব পরলেই কেউ শালিন হয়ে যায় না, বা হিজাব না পরলেও কেউ অশালিন হয়ে যায় না। অনেক হিজাবী কে দেখেছি চরম অশালীন,উগ্র তার সাজ পোশাকে। আবার অনেক হিজাব বিহীন নারী কে দেখেছি স্নিগ্ধ, সুন্দর, অমায়িক, দেখলেই শ্রদ্ধা জাগে মন থেকে।
যা কিছু সুস্থ, স্বাভাবিক, সুন্দর- তাতে নারী,পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহনের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলাই হচ্ছে নারীবাদ।
শিক্ষা একটা মৌলিক অধিকার।
কিন্তু এখনও অনেকেই বলেন মেয়েরা বেশী লেখা পড়া করলে ভালো বিয়ে হয় না......উচ্চমাধ্যমিকের পর পর বিয়ে না দিলে মেয়েদের চেহারা নষ্ট হয়ে যায়, পাত্র পক্ষ কম বয়েসী মেয়ে চায়। এগুলো কিন্তু গ্রামের কোন মহিলার কথা না, এই শহরের মানুষদেরই মুখের কথা। এগুলোর আড়ালে কি এটাই বোঝায় না যে মেয়েরা কেবল রান্না ঘর, বাচ্চা উতপাদন আর স্বামীর মনোরঞ্জনের জন্যেই জন্মেছে?
এই যদি হয় আমাদের চিন্তা ভাবনা, তাহলে কী করে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো আমাদের মেয়েদের? বাচ্চা বয়েসী মেয়ে কেন বিয়ের বাজারে উপযুক্ত? কচি বলে? এই শতাব্দীতে এসেও যদি আমরা এতো নিচু মানের চিন্তা ভাবনা করি, তাহলে মধ্য যুগের বা সেই আদ্যি কালের জংলী মানুষ গুলোর থেকে কীভাবে আলাদা হলাম আমরা?
প্রতিটা মেয়েকে লেখা পড়া শিখতে হবে, সে গ্রামের হোক কিংবা শহরের, সুন্দর হোক, কিংবা কালো।
প্রতিটা মেয়েকে স্বাবলম্বী হবার মতো দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যেন স্বামী মারা গেলে তাঁকে অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকতে না হয়।
প্রতিটা মেয়েকে স্বাবলম্বী হবার মতো দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যেন স্বামী মারা গেলে তাঁকে অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকতে না হয়।
প্রতিটা মেয়েকে এমনভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে যাতে শুধু মাত্র আর্থিক অসহায়ত্বের জন্য মুখ বুজে স্বামীর অকথ্য অত্যাচার সহ্য করতে না হয়।
মেয়েরা বাঁচুক মানুষের মর্যাদা নিয়ে, সম্মান নিয়ে। নারী পুরুষ উভয় উভয়ের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসায় গড়ে তুলুক এক সুন্দর পৃথিবী।
কারো নীরব অশ্রু যেন আমাদের জীবনকে অভিশপ্ত না করে - এটাই হলো নারীবাদের মূল কথা।

